Tuesday, October 11, 2016

নিজের সাথে মারামারি

ওজন কমানো বিষয়ে কয়েকজন মানুষকে সারাদিনই মনে পড়ে আর নিজের সাথে মারামারি চলে, বিশেষ করে খেতে বসলে।

প্রথম মানুষ হল মেরিসা। আর কয়েকজন হল, আমনা ফাতেমা ইকবাল লিজ, রাতুল দত্ত সাজেদুর রহমান, শারমিন ক্যাথি, একাকী জাহান, সুমাইয়া করিম ঐশী। এরা মুটু গ্রুপের লোকজন।

খালি ভাবি আমার কোন প্ল্যান নাই কেন
কবে শুরু করব

কেন আরো ওক চামচ ভাত খেলাম
কেন চিনি ওলা চা

কেন শুরু করিনা গ্রীন টি
আদার শরবত

উফ
সারাটাদিন নিজের সাথে মারামারি

মেরিসা ঠিকই বলেছে, no body cares.its only about yourself

প্রত্যেকে যুদ্ধই আলাদা আর আমারটা ও
আমি আসলে খুব স্বেচ্ছাচারী। একরোখা। মন কে বেশি পাত্তা দেই।
ঠিক না।
মনকে ট্রেইন আপ করতে হবে

খুব শখ হচ্ছে ইচ্ছামত সেজে গুজে কয়েকটা ছবি তুলব আমার ভাই মেরুনের dslr দিয়ে। এগুলোই হবে আমার বিফোর পিক।

এরপর সপ্তাহ খানেক কিছু ছোট খাট নিয়ম দিব মনকে। তারপর আফটার ফটো

তারপর প্রতি সপ্তাহে তুলব খালি এভার আফটার ছবি

ভাতের বিকল্প কি

ভাতের বিকল্প কি হতে পারে

Saturday, October 8, 2016

মোটিভেশনাল ভিডিও

গত কয়েকমাস আমার ওজন নেইনি আর জানিনা এখন আমার ওজন আসলে কত।
আজ অনেখন ইউটিউব দেখেছি,  গান শুনেছি, মেকবাপ দেখেছি, আবোল তাবোল অনেক কিছু দেখলাম, সেলাই, এইসব, যা হয় আর কি। এরপর হঠাত মনে হল, আচ্ছা ওজন কমানোর ভিডিও দেখি তো।

আসলে আমার মনে থাকেনা আমি মোটা
 হাতির মত খাই, হাতির মত গড়াই। যখন ডিউটিতে যাই, লজ্জায় কুকড়ে থাকি। যখন হাত পা ছেড়ে শুই, উরু আর বাহু ম্যাজ ম্যাজ করে। সিড়ি ভাংতে হয়না, কারণ দুই রলায় থাকি, ডিউটিতে লিফট আছে। কিন্তু কখনো উঠতে নামতে হলে হাটু ব্যথা করে। 
যাহোক, নতুন একটা চ্যানেল খুজে পেলাম, 70lbs of life. মেয়েটার নাম মেরিসা। এত প্রাণবন্ত। মোটা ড়া প্রাণবন্ত হয়না। কনফিউজড হয়। প্রায় ঘন্টা খানেক ওর ভিডিও দেখলাম, বকবিকানি শুনলাম, রান্না দেখলাম। এর এরপর ফেসবুক খুলে আবার গ্রুপে জয়েন করার ক্লিক করলাম, চলুন নিজের নামের পাশ থেকে মুটু মুটকী উপাধি মুছে ফেলি।

জানিনা কাজ হবে কিনা। তবে মেরিসা বলেছে, ও চল্লিশ বার attempt নিয়ে ৪১তম বার শুরু করেছে নতুন করে চেষ্টা। প্রথম ভিডিও দেখা উচিত 12things no one tells you about weight loss
খুব অনুপ্রাণিত বোধ করছি। বলতে ইচ্ছা হচ্ছে yey!!!

দেখলাম, মেরিসা সপ্তাহের রান্না একবারেই করে রাখে। সালাদ,মুরগী, টারকি। মনে হচ্ছে সহজ। ভাত প্রতিবেলায় রান্না না করলেও চলবে।


মেরিসা আরেকজনের নাম রি কমেন্ড করল, loose it like lauren। ছবি দেখে মাথা ঘুরে গেছে। she turned into a total different person

আরেকদিন দেখব from fat to fab
আজ মোবাইলের চার্জজ শেষ করে ফেলেছি।

Monday, September 19, 2016

আমি কেন খাই

মোটা হওয়ার পিছনে প্রধান কারণ হল, আমি সারাক্ষণ খাই। আর খাওয়ার চিন্তা করি। খাই মানে খেতেই থাকি খেতেই থাকি। যেমন দুপুরে সবার সাথে খেতে বসেছি। ভাত নিচ্ছি।নিচ্ছি। অনেক দ্রুত খেতে থাকি। সবার পরে উঠি। খেয়াল করে দেখলাম, মিষ্টি খাবার আমি কোন কিছু চিন্তা না করেই খেতে থাকি। সেটা খেতে ভাল হোক বা খারাপ। মাঝে মাঝে নিজেকে জিজ্ঞেস করি, আচ্ছা, মিষ্টিটা আমি কেন খাচ্ছি?
জানিনা।
মিষ্টিটা খেতে ভালনা। দেখতে ভালনা।
তবু মুখে পুরে নিলাম।
আমার মা এই অভ্যাসকে বলে চোখের খিদা।

আমি আমার আশে পাশের চিকন মানুষকে লক্ষ্য করে দেখেছি, তারা কখনো একটা পুরা মিষ্টি খায়না। অরধেক খায়। রস চিপে ফেলে দিয়ে বাকিটুকু খায়। বলে, এহ টেস্ট ভালনা, খাবনা। মাত্র ভাত খেয়েছি, খাবনা। পুরানো, বাসি, দেখতে খারাপ, কালো মিষ্টি ছাড়া খাইনা।
যদি বলি, খাও খাও, বলে, আপু, মোটা হয়ে যাবোতো!

আমার একজন ম্যাডাম আছেন, উনি মাঝে মাখেই দেখি দুই তিন তলা লিফটে না উঠে, না নেমে, হেটে হেটে উঠছেন নামছেন। উনাকে অসম্যে কিছু খেতে সাধা হলে কখনো সেটা খাননা
। সময় দেখেন। সময় ধরে খান। রাত আটটার মধ্যে রাতের খাবার, আর নির্দিষ্ট সময়ের আশেপাশে কোন নাস্তা নয়। খুব ছোট্ট একটা অভ্যাস। কিন্তু খুব চমৎকার, খুব কাজের।

কেন খাই, সেটা খুঁজে বের করা অনেক কষ্টসাধ্য। আর আমি দায়ী করি হতাশাকে। কিন্তু এখন আমার মোটো হল, কে হয় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে? তাই কেন খাই, সেই প্রশ্নের উত্তর বরং অজানাই থাক। নতুন নিয়ম ঠিক করেছি, খাবোনা। সময়ের বাইরে কিচ্ছু খাবোনা। পরবর্তী দুই সপ্তাহ নিজেকে সময় দিয়েছি, অভ্যাসটা রপ্ত করতে।
ইনশাল্লাহ আমি পারব। লেখাটা পড়ক্র জন্য ধন্যবাদ।

Wednesday, September 14, 2016

মুটু সিঁথি

শুভসন্ধ্যা।  আমি সিঁথি। মুটু সিঁথি। আমি ওজন কমানোর আশা রাখি তাই এই ব্লগ খুলেছি।

আমার জন্ম হয়েছিল একটি আন্ডারওয়েট বাচ্চা হিসাবে। তারপর ধীরে ধীরে আমি মোটা হই। এখন আমি এত মোটা, যে মুটু উপাধিটা আমার জন্য খুব কোমল হয়ে যায়। ধুমসী ঠিকঠাক যায়। কিন্তু নিজেকে কিছুটা হলেয়াও এখনো ভালবাসি। তাই সজ্ঞানে নিজেকে ধুমসী ডাকতে পারছিনা।

আমার উচ্চতা ৫'১" র একটু বেশি, পুরা দুই না, আর আমার ওজন ১০৫ কেজি। আমি একজন obese. আমি পেশায় একজন চিকিতসক। আমাকে অনেক ছোটাছুটি আর শস্ট্রেসের ভিতর দিয়ে যেতে হয়। ওজনের কারণে আমি কোন লোড নিতে পারিনা। অব্ধারিতভাবে  আমার ঘুম ভাঙে প্রতিদিন পায়ের তলা ব্যথা আর কাফ মাসল জমে যাওয়া নিয়ে। এছাড়া আমার হাতের ছোট ছোট জয়েন্ট ব্যথা করে। আমার হাতের নারভে হয়ত কোথাও কোন চাপা খাওয়ানো থাকবে। তাই হাতেও খুব ব্যথা থাকে। একটানা দাঁড়িয়ে বা একটানা ঝুঁকে থেকে আমি কোন কাজই করতে পারিনা। খুব কষ্ট হয়। আমাকে সপ্তাহে চারদিন হাসপাতালের রাউণ্ডে থাকতে হয়, আমি বরাবর পিছিয়ে যাই। দুই তিন তলা যখন সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয়, আমি হাপিয়ে যাই।অনেক কষ্ট হয়। আমার থাইরয়েডে সমস্যা আছে। ইদানিং আরো কিছু মেয়েলি সমস্যা যোগ হয়েছে।

মানসিকভাবে আমি একদম ভেঙে পড়েছি। আমি জানি ওজন কমানো খুন সোজা, মোটেই দশ বারো বছর লাগেনা, আর একটু কষ্ট হয় এই আর কি। কিন্তু সেই প্রসেসের মধ্যে দিয়ে আমি যেতে পারব কিনা, টিকতে পারব কিনা, জয়ী হতে পারব কিনা, সে বিষয়ে আমার নিজেকে নিয়ে বড় ধরণের সন্দেহ আছে।

সবাই মোটা মানুষকে খেপাতে, দুইটা উপদেশ দিতে খুব ভালোবাসে। আর যদি মোটা মানুষটা হয় আমার মত চিকিতসক, তাহলে তো কথাই নেই। এসব শুনতে শুনতে আরো বেশি হীনমন্যতায় ভুগি। কারো সামনে যেতে লজ্জা লাগে। কেউ বিশ্বাস করবেনা, কিন্তু এটাই সত্যি। আমার অজন আমার জীবন ধ্বংস করে ফেলছে। আর আমি আমার ওজনকে। এটা একটা দুষ্টচক্রের মত।।একজন আরেকজনকে তেনে নিচে নিয়ে যাচ্ছি।

তবে, অবশেষে, আমি কোণ্ঠাসা অবস্থায় হলেও নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। আমার নিজের ট্রেনার হিসাবে। আমার নিজের সার্বক্ষণিক উতসাহদাতা হিসাবে। নিজেই নিজেকে কাঙ্ক্ষিত ওজনে নিয়ে যাবো। আর এই হল আমার দায়রী। আপনি যদি এই লেখা পড়তে থাকেন, তাহলে জানতে পারবেন কিভাবে আমি নিজের সাথে নিজের লয়ারাইয়ে জয়লাভ করতে যাচ্ছি।
তাই স্বাগত মুটু সিঁথির ডায়রীতে।